১৮, আষাঢ়, ১৪২৭, Thursday, 02 July, 2020 11:11:02

সংবাদ শিরোনাম/ News Headline:

করোনা পরিস্থিতি নিয়ে দু- কলম ঃ এরমান হক বাবু

অনলাইন ডেস্ক আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল , ২০২০, ২১:৫৫ অপরাহ্ন

সময় গেলে সাধন হবেনা এরমান হক বাবুর দু- কলম

করোনা ভাইরাস সারা পৃথিবীতে মহামারীর রুপ নিয়েছে, বাংলাদেশও হয়তো মহামারী পথে যাচ্ছে (আল্লাহ না করুক)। এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসের মহামারী রোধে কোন ভেকসিন আমাদের হাতে নেই। প্রতিরোধের সর্বোত্তম উপায় হিসাবে লকডাউনই এখন পর্যন্ত স্বীকৃত, যা বিশ্বের আক্রান্ত সবগুলো দেশই ব্যবহার করছে। আমাদের দেশেও সাধারন ছুটির মোড়কে লকডাউন চলছে। কিন্তু এই লকডাউন কি আমরা মেনে চলছি অথবা মেনে চলা কি আমাদের পক্ষে সম্ভব বা কত দিন সম্ভব।

আর আমাদের দেশে এই সাধারণ ছুটির শুরু থেকেই প্রতিদিনই দেখছি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে লুকোচুরি খেলা, হাট বাজারে মানুষের ঘষাঘষি, মধ্যবিত্তের সীমিত সঞ্চয় শেষ হওয়ার দুশ্চিন্তা, অসহায় নিম্ন মধ্যবিত্তের হাসফাঁস, নিম্নবিত্তের খাদ্য/উপার্জনের জন্য মরিয়া ভাব, মসজিদে জামাতে নামাজ সীমিত আছে কিন্তু এটা নিয়ে ধর্মিয় নেতাদের বিভক্তি এই লকডাউন সফল হওয়ার অন্তরায়। ব্যবসা-বানিজ্য বন্ধ, স্থবির অর্থনীতি নিয়ে আমাদের টিকে থাকার সক্ষমতা কতটুকু এই ভাবনায় ব্যাস্ত অর্থনীতিবীদরা। ইতিমধ্যে লকডাউন বিরোধী মিছিল হয়েছে পৃথিবীর কয়কটি দেশে।

এই ভাইরাসটি একদম নতুন হওয়ায় এটি সম্পর্কে এখনো শতভাগ জানা সম্ভব হয়নি। তার উপর ভাইরাসটির চরিত্র অঞ্চল ভেদে ভিন্ন। ভাইরাসে আক্রান্ত শেষ ব্যাক্তিটি চিহ্নিত না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়ার কোনো উপায় নেই যে এই ভাইরাসের বিস্তার আবারো হবে না। ভেকসিন কবে আবিস্কার হবে বলা যায় না। সবগুলো ধাপ ঠিকঠাক পার সারা বিশ্বের জন্য কয়েকশ’ কোটি ভ্যাকসিন তৈরি করা মোটেও সহজ হবে না। তবে যে পদ্ধতিতেই ভ্যাকসিন তৈরি হোক না কেন সেটা এক থেকে দেড় বছরের আগে হাতে পাওয়া সম্ভব না। তারপর বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে, কোটি কোটি মানুষকে ভেকসিন দেওয়া অবশ্যই সময় সাপেক্ষ বিষয়। ততদিন কোন ভাবেই লকডাউনের মাধ্যমে মানুষদের ঘরে রখা সম্ভব নয় এই বাস্তবতা মেনে পরিকল্পনা করতে হবে।

পরিস্থিতি বলছে বাহিরের কর্ম শুরু হয়ে গিয়েছে, প্রয়োজনে যখন মানুষ বাহির হচ্ছে ও দিনে দিনে সংখ্যা বাড়ছে। আশংকা করা যায় এই সংখ্যা আরো বাড়বে তখন সুধু লক ডাউনের মাধ্যমে করোনা বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করার পরিকল্পনা সফল হবে না। বরং নির্দিষ্ট গাইডলাইন তৈরী ও প্রচার করে প্রয়োজনে যারা বাহিরে যায় তাদেরকে সচেতন করতে হবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সহ অন্যান্য বিষয় যেমন রিক্সা/ভ্যান চালক ও যাত্রীর জন্য, পন্য পরিবহনে নিয়োজিত কর্মিদের জন্য, ব্যক্তিগত পরিবহন ব্যবহারকারীদের জন্য, বিক্রয় কেন্দ্রে ক্রেতা-বিক্রেতার জন্য, পথচারীদের জন্য, শ্রমিকদের জন্য সহ যতগুলো ক্ষেত্রে ভাইরাস সংক্রমণের সমভাবনা আছে সবগুলোর জন্যই, সুরক্ষার জন্য করনীয় ও জীবানুনাশকের ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন তৈরী ও প্রচার এবং তা মেনে চলার ব্যবস্থা গ্রহন করা উচিত এখনই।

সমস্যা তৈরী হওয়ার জন্য অপেক্ষা না করে, লকডাউন মানতে মানুষের অনিহা ভবিষ্যতে কি ধরনের সমস্যা হতে পারে তা নির্নয়ের পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে। আগে থেকে প্রস্তুতি না নিলে এই ভাইরাস কে পরাজিত করা সম্ভব নয় তা অর্থনীতি ও প্রযুক্তিতে উন্নত রাষ্ট্রগুলোর বর্তমান অবস্থা প্রমান করে। ৮ই মার্চ প্রথম করোনা রোগী চিহ্নিত হওয়ার ৪২ দিন পর হলেও করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় পরামর্শ কমিটি গঠন করা হয়েছে, এখন অন্তত আমার প্রত্যাশা করতে পারি এই কমিটি দ্রুত, সঠিক, সময়োপযোগী পরিকল্পনা প্রনয়ন করবেন যা আমাদের ভবিষ্যতে চলার পথ এখনি বলে দিবে। বারবার বলতে হয় সময় গেলে সাধন হবে না।

Share Social Media

Comments
//