মেঘনায় বালু-সন্ত্রাস! দিনভর অভিযান

 মেঘনায় বালু-সন্ত্রাস! দিনভর অভিযান

বালু সন্ত্রাসীদের ধরতে দিনভর অভিযান চালানো হয়েছে। আজ নদীতে যৌথভাবে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, দুদক অভিযোগ কেন্দ্রে (হটলাইন ১০৬) মেঘনা নদীতে অবৈধ দখল ও বালু উত্তোলনের অভিযোগ এলে এর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন দুদক এনফোর্সমেন্ট অভিযানের সমন্বয়কারী মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী। স্থানীয় জনসাধারণের অভিযোগ, একটি সিন্ডিকেট বিপুল অঙ্কের ঘুষ লেনদেনের বিনিময়ে নদী ও বসতবাড়ি দখল এবং ধ্বংস করছে।
এ ছাড়াও গত শনিবার প্রথম আলোয় ‘মেঘনায় প্রকাশ্যে বালু সন্ত্রাস’ শিরোনামে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

অভিযোগ পেয়ে পরিবেশ ও প্রতিবেশ ধ্বংসকারী এ অপরাধ বন্ধে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে প্রয়োজনীয় ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ নিয়োগ করে অপরাধীদের গ্রেপ্তার, ড্রেজার জব্দ এবং নদী, গ্রাম ও ফসলি জমি রক্ষায় কঠোর নির্দেশ দেন দুদকের মহাপরিচালক। সে আলোকে আজ বেলা ১১টা থেকে মেঘনা নদীর সোনারগাঁও অংশে দুদকের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়। দুদক টিমে ছিলেন উপপরিচালক মো. হেলালউদ্দিন শরীফ ও সহকারী পরিচালক মো. সালাহউদ্দিন আহমেদসহ ৩ জন সদস্য। 
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনুর ইসলাম জানান, সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মেঘনা নদীর নুনেরটেক, আনন্দবাজার, ভাটিবন্দর, ঝাউচর ও মেঘনা উপজেলার মৈশারচর, বড়ইয়াকান্দি ও নলচর এলাকায় অভিযান চালানো হয়। ইউএনও ছাড়াও এতে অংশ নেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিএম রুহুল আমিনসহ পুলিশের একটি দল। দুদকের দলটিও সঙ্গে ছিল।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বি এম রুহুল আমিন প্রথম আলোকে বলেন, অবৈধভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ইমরান হোসেন ও আলম মিয়াকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা ও অনাদায়ে ১০ দিনের কারাদণ্ড, সবুজ মিয়া ও জাবেদ হোসেন নামের দুজনকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

দুদকের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বেলা ৩টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ৭টি ড্রেজার জব্দ ও ২জন ড্রেজারের মালিকসহ মোট ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সঙ্গে ড্রেজারের দুজন মালিককে জরিমানা করা হয়। 
অভিযান প্রসঙ্গে দুদকের মহাপরিচালক (প্রশাসন) এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী জানান, ‘একটি দুর্নীতিবাজ চক্র অর্থের বিনিময়ে নদী, ফসলি জমি এবং পরিবেশ ধ্বংস করছে। এ অপরাধের বলি হচ্ছে সাধারণ জনগণ, সর্বনাশ হচ্ছে কৃষিজমির, পালটে যাচ্ছে নদীর গতিপথ। যেহেতু পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে দুর্নীতি জড়িত, সেহেতু দুদক এ অপরাধ বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ পরিবেশ বিধ্বংসী অপরাধে কারও নিশ্চুপ থাকাও ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *